Ticker

6/recent/ticker-posts

কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে রোগীসেবা নিয়ে প্রশ্ন, খাবার ও চিকিৎসকের রাউন্ড নিয়ে ক্ষোভ


 


কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:

কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে রোগীসেবার মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ভর্তি থাকা রোগী ও তাদের স্বজনরা। তাদের অভিযোগ, হাসপাতালে খাবার ও নাস্তার ব্যবস্থা থাকলেও নতুন ভর্তি হওয়া রোগীদের ক্ষেত্রে নিয়ম নিয়ে তৈরি হয়েছে ভোগান্তি।

রোগী ও স্বজনদের দাবি, কোনো রোগী হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর ৩–৪ দিন পার না হলে তাকে নাস্তা ও খাবার দেওয়া হয় না। ফলে কোনো রোগী যদি মাত্র এক বা দুই দিনের জন্য হাসপাতালে ভর্তি থাকেন, তাহলে অভিযোগ অনুযায়ী ওই সময়টুকু তাকে হাসপাতালের খাবার বা নাস্তা ছাড়াই থাকতে হয়।

এ নিয়ে রোগী ও স্বজনদের প্রশ্ন—হাসপাতালে খাবারের ব্যবস্থা থাকার পরও নতুন ভর্তি হওয়া রোগীদের কেন শুরু থেকেই খাবার ও নাস্তা দেওয়া হবে না? মাত্র দুই দিনের জন্য ভর্তি থাকা একজন রোগীও তো চিকিৎসাধীন একজন রোগী; তাহলে তাকে খাবার থেকে বঞ্চিত রাখার নিয়মের যৌক্তিকতা কী?

অন্যদিকে চিকিৎসকের রাউন্ড নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। রোগী ও স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, চিকিৎসক সকালে একবার রাউন্ড দিয়ে চলে যাওয়ার পর পরবর্তী রাউন্ড দেওয়া হয় পরের দিন সকালে। অর্থাৎ একজন রোগীকে প্রায় ২৪ ঘণ্টা পর আবার চিকিৎসকের রাউন্ডের অপেক্ষায় থাকতে হয় বলে অভিযোগ।

স্বজনদের প্রশ্ন, কোনো রোগীর শারীরিক অবস্থার পরিবর্তন বা সমস্যা দেখা দিলে প্রতিবারই যদি তাকে ইমার্জেন্সিতে নিয়ে যেতে হয়, তাহলে হাসপাতালে ভর্তি থেকে চিকিৎসা নেওয়ার সুবিধা কোথায়? গুরুতর অসুস্থ রোগীর ক্ষেত্রে নিয়মিত চিকিৎসকের পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করা জরুরি বলেও মনে করছেন তারা।

এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ রোগী ও স্বজনদের কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, সরকারি হাসপাতালে যদি খাবার, নাস্তা, চিকিৎসকের পর্যবেক্ষণ ও অন্যান্য সেবা নিয়ে এমন ভোগান্তি থাকে, তাহলে সাধারণ মানুষ সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে কতটা সুবিধা পাচ্ছেন?

তাদের আরও বক্তব্য, চিকিৎসার জন্য টাকা খরচ করতেই হলে অনেকেই বাধ্য হয়ে বেসরকারি হাসপাতাল বা ক্লিনিকের দিকে যেতে পারেন। তাহলে সরকারি হাসপাতালে এসে সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে যদি রোগীদের এমন ভোগান্তির মুখোমুখি হতে হয়, সেটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

তবে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য নেওয়া জরুরি। রোগী ও স্বজনদের অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন—এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয়দের।

Post a Comment

0 Comments