👨🦱 নাগেশ্বরীর আপডেট নিউজ প্রতিবেদন 🔰প্রকাশ : ২৫ আগষ্ট ২০২৬, ৬:২৪ পিএম
নাগেশ্বরী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার ভিতরবন্দ ইউনিয়নে সুস্থ ও কর্মক্ষম ব্যক্তিদের প্রতিবন্ধী সাজিয়ে সরকারি ভাতা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে প্রকৃত বিধবা ভাতা প্রত্যাশীদের বঞ্চিত করে অবিবাহিত নারীদের নামেও বিধবা ভাতা দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব অনিয়মের ঘটনায় উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের ভাতা কার্যক্রম তদন্তের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও স্থানীয়রা।
অভিযোগ রয়েছে, ভিতরবন্দ ইউনিয়নের রফিকুল ইসলাম (৩৫), হাফিজুল ইসলাম (৪২) ও আব্দুস ছামাদ (৫০) শারীরিকভাবে সুস্থ ও কর্মক্ষম হওয়া সত্ত্বেও কয়েক বছর ধরে প্রতিবন্ধী ভাতা পাচ্ছেন। তাদের কাউকে শ্রবণ প্রতিবন্ধী, আবার কাউকে শারীরিক প্রতিবন্ধী হিসেবে তালিকাভুক্ত করে ভাতা দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, এসব অনিয়মের সময় নাগেশ্বরী উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা হিসেবে জামাল হোসেন দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর দায়িত্বকালীন ভাতা তালিকা, যাচাই-বাছাই, প্রতিবন্ধিতা নিরূপণ, সুবর্ণ নাগরিক কার্ড প্রদান এবং ভাতার অর্থ উত্তোলনের বিষয়গুলো তদন্ত করা হলে অনিয়মের প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসবে।
এদিকে উপজেলার রায়গঞ্জ ইউনিয়নে বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতা দেওয়ার কথা বলে তিন শতাধিক মানুষের কাছ থেকে সিম, জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য ও নগদ টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীরা প্রয়োজনীয় তথ্য ও টাকা দেওয়ার পরও ভাতা বা কার্ড না পেয়ে পরে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, তাদের নামেই সরকারি ভাতা চালু রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, শুধু রায়গঞ্জ ইউনিয়ন নয়, নাগেশ্বরীর আরও কয়েকটি ইউনিয়নে সরকারি ভাতা কার্ড বিতরণ ও সুবিধাভোগী নির্বাচনে একই ধরনের অনিয়ম হয়েছে। ভুক্তভোগীদের নামে চালু হওয়া ভাতার টাকা কারা উত্তোলন করেছেন, তা তদন্ত করে বের করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
সম্প্রতি দুই শতাধিক ভুক্তভোগীর স্বাক্ষর সংবলিত একটি লিখিত অভিযোগ উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে। এর আগে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের শাস্তির দাবিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধনও করেন এলাকাবাসী।
অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়েছে, সুস্থ ও কর্মক্ষম ব্যক্তিদের প্রতিবন্ধী ভাতার তালিকায় এবং অবিবাহিত নারীদের বিধবা ভাতার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এমনকি একটি পরিবারের পাঁচ সদস্যের কেউ ভাতা গ্রহণ না করলেও তাদের নামে প্রতিবন্ধী ও বিধবা ভাতা চালু থাকার অভিযোগ রয়েছে।
সরেজমিনে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে ভিতরবন্দ ইউনিয়নের ওই তিন ব্যক্তিসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়া হাসনাবাদ ইউনিয়নের আনিসুর রহমানসহ আরও কয়েকজন অর্থের বিনিময়ে অবৈধভাবে সুবর্ণ নাগরিক কার্ড নিয়ে ভাতার টাকা উত্তোলন করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো তদন্তের মাধ্যমে চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়নি।
এ বিষয়ে নাগেশ্বরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহাম্মদ আলাউদ্দিন বলেন, “অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ভুক্তভোগী ও স্থানীয়দের দাবি, সরকারি ভাতা কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে অভিযোগগুলো দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত সুবিধাভোগীদের অধিকার নিশ্চিত করা এবং অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

0 Comments