👨🦱 নাগেশ্বরীর আপডেট নিউজ প্রতিবেদন 🔰প্রকাশ : ১১ আগষ্ট ২০২৬, ৭:৫৮ এএম
এসএসসি পরীক্ষায় ব্যাপক ফল বিপর্যয়ের ঘটনায় শেরপুর সদর উপজেলার রামেরচর হাই স্কুলের শিক্ষকদের একটি কক্ষে অবরুদ্ধ করে বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে দেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। পরে পুলিশের উপস্থিতিতে দীর্ঘ আলোচনা শেষে শিক্ষকদের লিখিত অঙ্গীকারের পর তাদের মুক্ত করা হয়।
শনিবার বিকেলে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে শেরপুর সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। পরে আলোচনা শেষে সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিটে শিক্ষকদের অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে মুক্ত করা হয়।
স্থানীয় অভিভাবকরা জানান, চলতি বছর রামেরচর হাই স্কুল থেকে বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে মোট ৭৮ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। ফল প্রকাশের পর দেখা যায়, তাদের মধ্যে মাত্র ২১ জন পাস করেছে। ফেল করেছে ৫৭ জন। এর মধ্যে মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। বিজ্ঞান বিভাগেও ৪৩ জন শিক্ষার্থী ফেল করেছে।
এমন ফলাফলে ক্ষুব্ধ হয়ে শনিবার বিদ্যালয়ে জড়ো হন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। তাদের অভিযোগ, বিদ্যালয়ে নিয়মিত ক্লাস হয় না এবং অনেক শিক্ষক সময়মতো বিদ্যালয়ে আসেন না। শিক্ষকদের অবহেলা ও দায়িত্বহীনতার কারণেই প্রতি বছর বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী ফেল করছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
বিক্ষোভের একপর্যায়ে শিক্ষকদের বিদ্যালয়ের কার্যালয়ের একটি কক্ষে রেখে বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে দেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। খবর পেয়ে শেরপুর সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি শান্ত করে।
পরে পুলিশ, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে দীর্ঘ সময় আলোচনা হয়। আলোচনা শেষে শিক্ষকদের পক্ষ থেকে লিখিত অঙ্গীকারপত্র দেওয়া হলে সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিটে তাদের অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে মুক্ত করা হয়।
লিখিত অঙ্গীকারে শিক্ষকরা উল্লেখ করেন, চলতি এসএসসি পরীক্ষায় ফেল করা সব শিক্ষার্থীর বোর্ড চ্যালেঞ্জের ফি এবং ২০২৭ সালে পুনরায় এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য ফরম পূরণের খরচ তারা নিজেদের অর্থায়নে বহন করবেন।
শেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহেল রানা বলেন, রামেরচর হাই স্কুলে শিক্ষকদের অবরুদ্ধ করার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরিস্থিতি শান্ত করে শিক্ষকদের উদ্ধার করা হয়েছে। পরে উভয়পক্ষ আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতায় পৌঁছেছে।
শেরপুর সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা চান মিয়া বলেন, ঘটনাটি তিনি জেনেছেন। তবে এখন পর্যন্ত স্কুল কর্তৃপক্ষ বা শিক্ষকদের বিরুদ্ধে কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

0 Comments