Ticker

6/recent/ticker-posts

১২ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে কুড়িগ্রাম জেলা জামায়াতের সহ-সেক্রেটারির পদ স্থগিত, অভিযোগ অস্বীকার


 

👨‍🦱 নাগেশ্বরীর আপডেট নিউজ প্রতিবেদন 🔰প্রকাশ : ২ আগষ্ট ২০২৬, ১১:১ পিএম


নিজস্ব প্রতিবেদক | কুড়িগ্রাম

নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের কাছ থেকে প্রায় ১২ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগের পর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কুড়িগ্রাম জেলা শাখার সহ-সেক্রেটারি শাহজালাল সবুজের দলীয় পদ স্থগিত করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুড়িগ্রাম জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক আজিজুর রহমান স্বপন।

জানা গেছে, “ভিশন এন্টারপ্রাইজ” নামে একটি ডিলারশিপ ব্যবসায় বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে কুড়িগ্রাম জেলা জামায়াত ও এর অঙ্গসংগঠনের সাবেক ও বর্তমান শতাধিক নেতাকর্মী এবং সাধারণ মানুষের কাছ থেকে প্রায় ১২ কোটি টাকা সংগ্রহ করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, শুরুতে কিছুদিন নিয়মিত লভ্যাংশ প্রদান করা হলেও পরে বিনিয়োগকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়া বন্ধ হয়ে যায়। এ ঘটনায় অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে।

প্রতিষ্ঠানটির অংশীদারিত্বের দলিল অনুযায়ী মালিক হিসেবে শাহজালাল সবুজ, রফিকুল ইসলাম, সাবেক কেন্দ্রীয় অর্থ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম এবং ইঞ্জিনিয়ার আ. সালাম সুজার নাম রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম ২০২০ সালের ৮ নভেম্বর শুরু হয়। এছাড়া প্রতিষ্ঠানে কর্মী হিসেবে জেলা জামায়াতের কয়েকজন নেতাকর্মী দায়িত্ব পালন করেছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়।

অভিযোগের পর ভুক্তভোগী নেতাকর্মীরা জেলা জামায়াতের আমীরের কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। পরে জেলা পর্যায়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত প্রতিবেদন কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে পাঠানো হলে অভিযোগের ভিত্তিতে শাহজালাল সবুজের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। দলীয় সূত্র জানায়, তার রোকনিয়াত তিন মাসের জন্য মূলতবি করা হয়েছে এবং সহ-সেক্রেটারির দায়িত্ব থেকেও অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যদের বিষয়েও কেন্দ্র থেকে সিদ্ধান্ত আসবে বলে জেলা আমীর ভুক্তভোগীদের জানিয়েছেন।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সংগঠনের পরিচয় ও আস্থাকে কাজে লাগিয়ে তাদের কাছ থেকে বিনিয়োগের নামে অর্থ নেওয়া হয়েছে। কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ভোগডাঙ্গা ইউনিয়নের যুব বিভাগের সাবেক সভাপতি তৈয়বুর রহমান বলেন, তার পরিবারের প্রায় আট লাখ টাকা প্রতিষ্ঠানটিতে বিনিয়োগ করা হয়েছিল, যা এখনো ফেরত পাওয়া যায়নি। তিনি দ্রুত অর্থ ফেরতের দাবি জানান। আরেক ভুক্তভোগী সাদেকুর রহমান অভিযোগ করেন, প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী অর্থ ফেরত না পাওয়ায় তারা আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও বিবেচনা করছেন।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শাহজালাল সবুজ। তিনি বলেন, তাকে এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে জড়িয়ে একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে। তার দাবি, “ভিশন এন্টারপ্রাইজ”-এর একক মালিক ও স্বত্বাধিকারী রফিকুল ইসলাম (রাজারহাট) এবং প্রতিষ্ঠানটির সব আর্থিক লেনদেন তার ব্যক্তিগতভাবে পরিচালিত হয়েছে।

নিজের বক্তব্যের পক্ষে শাহজালাল সবুজ বলেন, প্রতিষ্ঠানের ট্রেড লাইসেন্স ২০১৫ সাল থেকে রফিকুল ইসলামের একক নামে রয়েছে। ব্যাংক হিসাব, চেকের স্বাক্ষরকারী ও হিসাবের নমিনিও রফিকুল ইসলাম ও তার পরিবারের সদস্যরা। এছাড়া ২০২৩ সালে ইউনাইটেড ফাইন্যান্স পিএলসি থেকে নেওয়া ৩৫ লাখ টাকার ঋণের নথিতেও অংশীদারদের কেউ গ্রান্টার বা সাক্ষী ছিলেন না বলে তিনি দাবি করেন। এসব নথি অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটি রফিকুল ইসলামের ব্যক্তিগত মালিকানাধীন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

শাহজালাল সবুজ আরও বলেন, তাকে জড়িয়ে যে অভিযোগ প্রচার করা হচ্ছে তা ভিত্তিহীন এবং প্রকৃত দায়ীদের আড়াল করার উদ্দেশ্যে পরিচালিত। তিনি বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত তথ্য প্রকাশের আহ্বান জানান।

এদিকে কুড়িগ্রাম জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক আজিজুর রহমান স্বপন বলেন, “বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে অন্যায় বা অনিয়মের কোনো স্থান নেই। অভিযোগের বিষয়ে সাংগঠনিক বিধি অনুসারে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।” তিনি আরও জানান, ভুক্তভোগীদের অর্থ ফেরতের বিষয়েও দলীয়ভাবে আলোচনা ও সমন্বয়ের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।


Post a Comment

0 Comments