👨🦱 নাগেশ্বরীর আপডেট নিউজ প্রতিবেদন 🔰প্রকাশ : ১০ আগষ্ট ২০২৬, ৩:৪৪ পিএম
ডেস্ক নিউজ
দারিদ্র্যপীড়িত জেলা কুড়িগ্রামে মাসব্যাপী শিল্প ও বাণিজ্য মেলার নামে কথিত ‘হাউজিং লটারি’ বা লটারির আয়োজন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। মেলার নামে সাধারণ মানুষকে লটারির টিকিট কিনতে আকৃষ্ট করে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ করেছেন জেলার সচেতন নাগরিকরা।
অভিযোগকারীদের দাবি, শিল্প ও বাণিজ্য মেলায় পণ্য কেনাবেচা বা ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা নিয়ে আপত্তি নেই। তবে মেলার সঙ্গে লটারির মতো কার্যক্রম যুক্ত করে সাধারণ মানুষকে অল্প টাকায় বড় পুরস্কারের আশায় টিকিট কিনতে উৎসাহিত করা হচ্ছে। এতে নিম্নআয়ের মানুষও লোভে পড়ে অর্থ ব্যয় করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
একজন সচেতন নাগরিক বলেন, ‘কুড়িগ্রাম দেশের অন্যতম দরিদ্র জেলা। এখানে মানুষের আয় সীমিত। অথচ অল্প কিছু পুরস্কারের প্রলোভন দেখিয়ে যদি সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিপুল অর্থ সংগ্রহ করা হয়, তাহলে সেটি কতটা জনকল্যাণমূলক—তা ভেবে দেখা দরকার।’
তিনি আরও বলেন, ‘শিল্প ও বাণিজ্য মেলার মূল উদ্দেশ্য যদি ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্পের প্রসার হয়, তাহলে সেখানে লটারির আয়োজন কেন থাকবে? মেলার নামে লটারি খেলা হলে সেটি বন্ধে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।’
এদিকে অভিযোগ রয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছু কনটেন্ট ক্রিয়েটর অর্থের বিনিময়ে কথিত লটারির প্রচারণা চালাচ্ছেন। এমনকি লটারির ড্রয়ের ফলাফলও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভ প্রচার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সচেতন নাগরিকদের প্রশ্ন, সামান্য কিছু পুরস্কারের বিপরীতে লটারির মাধ্যমে সংগৃহীত বিপুল অর্থ কোথায় যাচ্ছে এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত—এ বিষয়ে প্রশাসনের নজরদারি প্রয়োজন।
তাদের মতে, শিল্প ও বাণিজ্য মেলার নামে কোনো ধরনের অনিয়ম বা অবৈধ জুয়া পরিচালনার সুযোগ দেওয়া উচিত নয়। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন এবং জেলার রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের প্রতি দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা।
তাদের ভাষ্য, ‘মেলার নামে ব্যবসা-বাণিজ্য চলুক, কিন্তু সাধারণ মানুষকে প্রলোভিত করে কোনো ধরনের অবৈধ জুয়া বা লটারি পরিচালনা করা যাবে না।’

0 Comments