👨🦱 নাগেশ্বরীর আপডেট নিউজ প্রতিবেদন 🔰প্রকাশ : ১৫ আগষ্ট ২০২৬, ১১:৩৮ পিএম
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:
বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত একটি নাম রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। বিএনপির রাজনীতিতে ছাত্রজীবন থেকে উঠে আসা এই নেতা বর্তমানে জাতীয় রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছেন। তিনি রাজনীতিবিদ ও আইনজীবী হিসেবে পরিচিত। ২০২৬ সালে তিনি প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হিসেবে মন্ত্রী পদমর্যাদায় দায়িত্বে রয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটেও তার এই পদ ও দায়িত্বের তথ্য উল্লেখ রয়েছে।
জন্ম ও পৈতৃক পরিচয়
রুহুল কবির রিজভীর পৈতৃক নিবাস কুড়িগ্রাম জেলায়। বিভিন্ন প্রকাশিত জীবনীতে তার জন্মস্থান কুড়িগ্রাম জেলা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তার জন্ম ঢাকার হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে হয়েছিল—এমন তথ্যও বিভিন্ন জীবনীমূলক প্রতিবেদনে পাওয়া যায়। ফলে তাকে কুড়িগ্রামের সন্তান হিসেবে পরিচিত করা হলেও জন্মস্থান ও পৈতৃক নিবাসের বিষয়টি আলাদা করে উল্লেখ করাই অধিক নির্ভুল।
শৈশবে তিনি বগুড়া জিলা স্কুল, কুড়িগ্রাম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ও বগুড়া বাংলা স্কুলে পড়াশোনা করেন বলে প্রকাশিত জীবনীতে উল্লেখ রয়েছে। পরবর্তীতে রাজশাহী কলেজ ও রাজশাহী সরকারি সিটি কলেজে পড়াশোনা করেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা এবং ইতিহাস বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পাশাপাশি আইন বিষয়ে ডিগ্রি লাভ করেন।
ছাত্ররাজনীতি থেকে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে
রিজভীর রাজনৈতিক পথচলা শুরু হয় ছাত্রজীবনে। প্রথমদিকে তিনি বামপন্থী ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরবর্তীতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলে যোগ দেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করার পর তিনি জাতীয় পর্যায়ের ছাত্রনেতা হিসেবে পরিচিতি পান।
১৯৮৯ সালের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ—রাকসু নির্বাচনে তিনি সহসভাপতি (ভিপি) নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন।
এরপর বিএনপির কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করেন রিজভী। ২০১৬ সালের মার্চে তিনি বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব নির্বাচিত হন। দীর্ঘ সময় তিনি বিএনপির নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের দফতর সম্পাদক ও দলের অন্যতম মুখপাত্র হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
বগুড়ার সঙ্গে সম্পর্ক
রুহুল কবির রিজভীর পৈতৃক শিকড় কুড়িগ্রামে হলেও বগুড়ার সঙ্গেও তার পারিবারিক সম্পর্ক রয়েছে। প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তার বাবা বগুড়া শহরের মালতিনগরে বাড়ি করেছিলেন এবং রিজভী ও তার ছোট ভাই সেখানে থাকতেন। বর্তমানে তিনি স্ত্রী-সন্তান নিয়ে ঢাকায় বসবাস করেন বলে ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
পারিবারিক জীবন
রুহুল কবির রিজভীর স্ত্রীর নাম আঞ্জুমান আরা আইভী—বিভিন্ন সংবাদ প্রতিবেদনে তার স্ত্রী হিসেবে এই নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
বর্তমানে যে দায়িত্বে
২০২৬ সালের সরকারি তথ্য অনুযায়ী রুহুল কবির রিজভী প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হিসেবে মন্ত্রী পদমর্যাদায় দায়িত্ব পালন করছেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের তালিকায় তার নাম ও পদবি প্রকাশ করা হয়েছে।
একসময় বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দীর্ঘ সময় অবস্থান করে দলীয় কর্মকাণ্ড পরিচালনা এবং নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে দলের বক্তব্য তুলে ধরার কারণে তিনি বিএনপির অন্যতম পরিচিত মুখে পরিণত হন। ২০১৮ সাল থেকে প্রায় দুই বছর তিন মাস নয়াপল্টনের দলীয় কার্যালয়ে অবস্থানের ঘটনাও তাকে রাজনৈতিকভাবে আলোচনায় এনেছিল।
কুড়িগ্রামের সঙ্গে সম্পর্ক
জাতীয় রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে উঠে আসা রুহুল কবির রিজভীর পৈতৃক শিকড় কুড়িগ্রামে হওয়ায় জেলার মানুষের কাছেও তিনি বিশেষভাবে পরিচিত। ছাত্ররাজনীতি থেকে শুরু করে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এবং পরবর্তীতে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আসা—তার রাজনৈতিক জীবন বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘ পথচলার একটি উদাহরণ।

0 Comments