👨🦱 নাগেশ্বরীর আপডেট নিউজ প্রতিবেদন 🔰প্রকাশ : ২ আগষ্ট ২০২৬, ৯:০৬ এএম
দেড়টার দিকে স্বজনের ফোনে আসে সেই ভয়াবহ সংবাদ—রাজিব আর নেই।
পরিবারের দাবি, পরে তাকে লালমনিরহাট জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুমন খানের বাসা থেকে আগুনে পোড়া মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
‘আর কোনো মাকে যেন এমন দিন দেখতে না হয়’
স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বারবার ভেঙে পড়ছিলেন রাজিবের মা। তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে মানুষের মতপার্থক্য থাকতে পারে, কিন্তু যারা জীবন দিয়েছেন, তাদের আত্মত্যাগ যেন কখনো বিস্মৃত না হয়।
তিনি দেশের শাসকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, শহীদদের রক্তের মর্যাদা রক্ষা করতে হবে, আইনের শাসন ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কোনো মাকে আর সন্তানের লাশের জন্য অপেক্ষা করতে না হয়।
রাজিবের বাবা রেজাউল করিম সরকার, লালমনিরহাটের বেগম কামরুন্নেছা ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক। ছেলের কথা বলতে গিয়ে তিনিও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
তিনি বলেন, “ও শুধু আমার ছেলে ছিল না, আমার সবচেয়ে কাছের বন্ধু ছিল। ছোটবেলা থেকে নিজের হাতে মানুষ করেছি। স্কুলে নেওয়া, গোসল করানো, পড়ানো—সবই করেছি। আজ সব স্মৃতি বুকের ভেতর কাঁটার মতো বিঁধে আছে।”
তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিচারের দাবি জানান।
ভাইদের চোখেও একই শূন্যতা
ছোট ভাই মেজবাহ উল করিম সরকার বলেন, বড় ভাইয়ের সঙ্গে মাছ চাষ, পাখি পালনসহ নানা কাজ করতেন। প্রকাশ্যে কান্না করতে না পারলেও ভেতরে ভেতরে প্রতিদিনই ভাইকে মনে করে কাঁদেন।
মেজো ভাই জামিউল করিম সরকার জানান, বড় ভাই তাদের আন্দোলনে যেতে নিষেধ করেছিলেন। পরে সংবাদমাধ্যম ও ফেসবুক লাইভে রাজিবকে আন্দোলনের সামনের সারিতে দেখে তারা বুঝতে পারেন, তিনি দেশের জন্য নিজের জীবন বাজি রেখেছিলেন।
‘প্রতিটি শহীদ পরিবারের কাছে যাচ্ছি’
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন কুড়িগ্রাম জেলা শাখার আহ্বায়ক লোকমান হোসেন লিমন বলেন,
“আমরা পর্যায়ক্রমে সব শহীদ পরিবারের কাছে যাচ্ছি। তাদের কষ্টের কথা শুনছি, পাশে থাকার চেষ্টা করছি। প্রতিটি পরিবার আমাদের মনে করিয়ে দেয়—এই স্বাধীনতার মূল্য কত বড়।”
তিনি জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে কুড়িগ্রামে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ১৩৪ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। রাজারহাট উপজেলায় আহত হয়েছেন ১৪ জন এবং শহীদ হয়েছেন একজন—রাজিব উল করিম সরকার। সারা দেশে স্কাউটের ৯ জন শহীদের একজনও তিনি।
সংগঠনের সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব সাজ্জাদ হোসাইন বলেন, শহীদদের ইতিহাস সংরক্ষণ এবং নতুন প্রজন্মের কাছে তাদের আত্মত্যাগ পৌঁছে দেওয়া সবার দায়িত্ব।
সফরের সময় স্থানীয়রা শহীদ রাজিবের এলাকার একটি মসজিদের নির্মাণকাজে সহযোগিতার আবেদন জানান। এ বিষয়ে জেলা মহিলা দলের সেক্রেটারি মিলি কায়কোবাদ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে বিধি অনুযায়ী সর্বোচ্চ সহযোগিতার চেষ্টা করবেন বলে আশ্বাস দেন।
একটি ঘর, কিছু অমলিন স্মৃতি আর অশ্রুসিক্ত একটি পরিবার—সব মিলিয়ে শহীদ রাজিবের বাড়ির সেই বিকেল যেন জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মূল্য আরেকবার মনে করিয়ে দিল। স্বপ্নবাজ এক তরুণের অসমাপ্ত পথচলা আজও তার বাবা-মায়ের চোখের জলে, ভাইদের নীরবতায় এবং তাকে স্মরণ করতে আসা মানুষের শ্রদ্ধায় বেঁচে আছেে

0 Comments