Ticker

6/recent/ticker-posts

বোনের ক্ষমতায় অপকর্মের পাহাড় গড়েছে ঘোগাদহে লিটন একের পর এক নারীকে যৌন নিপীড়ন করার অভিযোগ


 

👨‍🦱 নাগেশ্বরীর আপডেট নিউজ প্রতিবেদন 🔰প্রকাশ : ২৮ জুলাই ২০২৬, ৬:৪৮ পিএম


বোনের ক্ষমতায় অপকর্মের পাহাড় গড়েছে ঘোগাদহে লিটন একের পর এক নারীকে যৌন নিপীড়ন করার অভিযোগ

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ঘোগাদহ ইউনিয়নের কামার হাইল্যা গ্রামে এক লম্পট ও চিহ্নিত অপরাধীর বেপরোয়া কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বড় বোনের সরকারি পদের প্রভাব খাটিয়ে সরকারি ভাতার লোভ দেখিয়ে সাধারণ নারীদের জিম্মি করা, যৌন নিপীড়ন, মারধর, এমনকি বেআইনি বিচার ও মাদক-জুয়ার আখড়া চালিয়ে এক ত্রাসের রাজত্ব গড়ে তোলার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে লিটনের বিরুদ্ধে। একের পর এক অপকর্মের পর সামাজিকভাবে শালিস কিংবা থানায় লিখিত অভিযোগ করা হলেও থামেনি তার বেপরোয়া তাণ্ডব।​​স্থানীয় সূত্রে ও নথিপত্রে দেখা যায়, লিটনের বড় বোন নাজমা বেগম ঘোগাদহ ইউনিয়ন পরিষদের একজন কর্মরত 'গ্রাম পুলিশ'। বোনের এই সরকারি পরিচয়ের ক্ষমতার অপব্যবহার করে লিটন নিজেকে ইউনিয়নের নীতি-নির্ধারক হিসেবে জাহির করতো। ইউনিয়ন পরিষদে যাতায়াতের সুবাদে সে এলাকার অসচ্ছল পরিবারের নারীদের টার্গেট করতো।

​বিশেষ করে স্বামীরা যখন জীবিকার তাগিদে বাইরে থাকতেন, তখন শিশু ভাতা, বিধবা ভাতা বা সরকারি বিভিন্ন সুবিধা করে দেওয়ার কথা বলে নারীদের কাছ থেকে কৌশল মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করতো সে। পরবর্তীতে গভীর রাতে কল করে কু-প্রস্তাব দেওয়া, অশালীন কথাবার্তা বলা এবং ব্ল্যাকমেইল করার মাধ্যমে অসহায় নারীদের প্রলোভন ও শোষণের জালে ফেলাই ছিল তার অন্যতম মূল কৌশল।​প্রমাণস্বরূপ নথিপত্রে দেখা যায়, ২০২৪ সালের মার্চ মাসে কামার হাইল্যা গ্রামের এক প্রবাসীর স্ত্রীকে (মোছাঃ রোকসানা বেগম) শিশু ভাতা কার্ড করে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে তার নম্বর নেয় লিটন। এরপর প্রতিনিয়ত কু-প্রস্তাব দেওয়া শুরু করলে ভুক্তভোগী নারী স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের বিষয়টি জানান। শালিসে লিটন ক্ষমা চেয়ে সংশোধনের অঙ্গীকার করলেও পরবর্তীতে ক্ষিপ্ত হয়ে গত ০৮/০৩/২০২৪ খ্রিষ্টাব্দ রাত আনুমানিক ০৯.৩০ ঘটিকায় ভুক্তভোগীর ফাঁকা বাড়িতে অনধিকার প্রবেশ করে। সেখানে সে জোরপূর্বক পরনের কাপড় টানা-হেঁচড়া করে যৌন নিপীড়ন ও শ্লীলতাহানি ঘটায়। ভুক্তভোগীর চিৎকারে স্থানীয় বাসিন্দারা এগিয়ে এলে সে পালিয়ে যায়। ওই ঘটনায় কুড়িগ্রাম থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল।​​লিটনের অপরাধের মাত্রা কেবল নারী নিগ্রহেই সীমাবদ্ধ ছিল না। নিজ এলাকা কামার হাইল্যার বাঁশঝাড়ে সে নিয়মিত জুয়ার আড্ডা ও মাদকের আখড়া গড়ে তোলে, যেখান থেকে প্রতিদিন চুক্তিভিত্তিক মাসোহারা আদায় করতো। এছাড়া এলাকায় কোনো অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলে-মেয়ের বিয়ের খবর পেলে প্রশাসনের ভয় দেখিয়ে নিজে বেআইনি ‘ক্যাঙ্গারু কোর্ট’ বসাতো এবং বিচারকের ভূমিকা নিয়ে অসচ্ছল পরিবারের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা জরিমানা আদায় করে পকেটে পুরতো।

​এর আগে ২০২২ সালে তার জুয়া ও মাদকের গ্রাস মাত্রা ছাড়িয়ে গেলে ২৮ অক্টোবর ২০২২ খ্রিষ্টাব্দে তৎকালীন ঘোগাদহ ইউনিয়নের বিট পুলিশিং কর্মকর্তা ও স্থানীয় ইউপি সদস্যের উপস্থিতিতে গ্রাম পর্যায়ে একটি লিখিত সমাধান ও মুচলেকা নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আইনি কোনো তোয়াক্কা না করে দিন দিন আরও আগ্রাসী হয়ে ওঠে সে।​​আইনি পদক্ষেপ নেওয়া সত্ত্বেও লিটনের অপকর্ম থামেনি, যার চূড়ান্ত রূপ ঘটে গত ২৬ জুলাই গভীর রাতে (আনুমানিক রাত ১২:৪৫ ঘটিকা) লিটন তার সহযোগী মোঃ আশরাফুল ইসলাম কে- সাথে নিয়ে কামার হাইল্যা গ্রামে আরেক নারীর (মোছাঃ সাহিনা খাতুন) ভাই মোঃ সাইফুর রহমানের বসতবাড়িতে অনধিকার প্রবেশ করে।

​সেখানে ২৫ বছর বয়সী ওই নারীকে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা চালায় আসামিরা। নারীটি আত্মরক্ষা করতে গেলে ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে বেপরোয়া মারধর করে রক্তপাত ঘটানো হয় এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। পরপর দুটি ঘটনার পর ভুক্তভোগী পরিবারগুলো আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে ২০২৬ সালের ঘটনাটিতে কুড়িগ্রাম থানায় সরাসরি একটি ফৌজদারি মামলা নথিভুক্ত হয়েছে। যা মামলার সংশ্লিষ্ট ধারা: নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধিত/২০০৩) এর ৯(৪)(খ) [ধর্ষণ চেষ্টা] তৎসহ পেনাল কোড ৩২৩ [মারধর], ৩০৭ [হত্যার চেষ্টা] ও ৫০৬ [ভীতি প্রদর্শন] উল্লেখ্য যোগ্য

​এ বিষয়ে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী নারীর লিখিত এজাহারের ভিত্তিতে পেনাল কোড ও নারী নির্যাতন দমন আইনে মামলা রুজু করে আদালতে নথি পাঠানো হয়েছে এবং চিহ্নিত আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

​এদিকে, গ্রাম পুলিশের ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে একের পর এক নারী নির্যাতন, যৌন নিপীড়ন ও সামাজিক অপরাধ সংঘটনকারী লিটন ও তার সহযোগী আশরাফুলের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও কামার হাইল্যা গ্রামের সচেতন সাধারণ মানুষ।

Post a Comment

0 Comments