Ticker

6/recent/ticker-posts

কুড়িগ্রামে ব্লাকমেইল ও পর্নোগ্রাফি অভিযোগে কামরুল ও তার দুই স্ত্রীরসহ গ্রেপ্তার ৩


👨‍🦱 নাগেশ্বরীর আপডেট নিউজ প্রতিবেদন 🔰প্রকাশ : ১১ জুলাই ২০২৬, ৮:৪৩ এএম


কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার সদর ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামে অনলাইনে পর্নোগ্রাফি তৈরি ও প্রচারের অভিযোগে কামরুল হাসান কাজল (৩৫) ও তার দুই স্ত্রী মোছাঃ হাফিজা বেগম (২৫) এবং মোছাঃ মুক্তা মনি (৩০)-কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।

ভূরুঙ্গামারী থানার এসআই (নিঃ) মোঃ আহসান হাবিব বাদী হয়ে দায়ের করা এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৫ জুলাই সন্ধ্যায় জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ খবর আসে যে গোপালপুর গ্রামে কামরুল হাসান কাজলের বাড়িতে পর্নোগ্রাফি তৈরি ও প্রচারের অভিযোগে স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা তিনজনকে আটক করে রেখেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের হেফাজতে নেয়।

পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা মোবাইল ফোন ব্যবহার করে বিভিন্ন অনলাইন অ্যাপসের মাধ্যমে নগ্ন ও অশ্লীল ভিডিও ধারণ ও প্রচারের বিষয়টি স্বীকার করেন। পরে কামরুলের কাছ থেকে একটি Vivo Y29 এবং হাফিজা বেগমের কাছ থেকে একটি Samsung Galaxy A17 5G মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। জব্দকৃত মোবাইল ফোনে ELive, TiLive, IMO ও WhatsApp-সহ বিভিন্ন অ্যাপসের মাধ্যমে পর্নোগ্রাফি তৈরি ও প্রচারের আলামত পাওয়া গেছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

এজাহারে আরও বলা হয়েছে, কামরুল হাসান কাজল তার স্ত্রী হাফিজা বেগম ও অপর স্ত্রী মুক্তা মনির সহযোগিতায় দীর্ঘদিন ধরে ELive ও TiLive-সহ বিভিন্ন অনলাইন লাইভ প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে নিজেদের নগ্ন ও অশ্লীল ভিডিও তৈরি ও লাইভ সম্প্রচার করতেন। এছাড়া Binance অ্যাপের মাধ্যমে অর্থ উপার্জনের পাশাপাশি WhatsApp ও IMO-এর মাধ্যমেও এসব ভিডিও প্রচার করা হতো বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কামরুল হাসান কাজল পেশায় কুড়িগ্রাম জেলা আদালতের একজন মহুরী হিসেবে কাজ করেন। পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রতিবেদনও করে থাকেন বলে এলাকাবাসী জানিয়েছেন।

পুলিশ জানায়, উত্তেজিত জনতার কাছ থেকে হেফাজতে নেওয়ার সময় কামরুল অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে প্রথমে ভূরুঙ্গামারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে চিকিৎসা শেষে থানায় নেওয়া হয়।

এ ঘটনায় এসআই (নিঃ) মোঃ আহসান হাবিব বাদী হয়ে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ৮(১), ৮(৩), ৮(৫)(ক) ও ৮(৭) ধারায় তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।

গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ভূরুঙ্গামারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আজিম উদ্দিন। তিনি জানান, জব্দকৃত আলামত পরীক্ষা করে আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে এবং গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।



 

Post a Comment

0 Comments