👨🦱 নাগেশ্বরীর আপডেট নিউজ প্রতিবেদন 🔰প্রকাশ : ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬:৫৭ পিএম
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ঘোগাদহ ইউনিয়নের খামার রসুলপুর গ্রামে ৮ বছরের শিশু মোরশেদ আলীর মৃত্যু ঘিরে শোক ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। শিশুটির মরদেহ বাড়ির উঠানে রেখে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন তার পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় নিজ বাড়িতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় শিশু মোরশেদ আলী। পরিবারের দাবি, মাত্র সাত মাস বয়স থেকেই হৃদরোগে আক্রান্ত ছিল সে। দীর্ঘদিন ধরে সন্তানের চিকিৎসা করাতে গিয়ে আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন তার বাবা-মা।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, মোরশেদের অস্ত্রোপচারের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ সংগ্রহ করতে তাদের শেষ সম্বল প্রায় সাড়ে ২০ শতক জমি বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হয়। জমি বিক্রির বিষয়ে চুক্তি হলেও প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সময়মতো টাকা না পাওয়ায় ঢাকার জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে শিশুটির অস্ত্রোপচার করানো সম্ভব হয়নি বলে অভিযোগ পরিবারের।
পরবর্তীতে মোরশেদকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনার পর তার মৃত্যু হয় বলে পরিবারের দাবি। এরপর থেকে শিশুটির মরদেহ বাড়ির উঠানে রাখা হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা বলছেন, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার না হওয়া পর্যন্ত তারা মরদেহ দাফন করবেন না।
এ ঘটনায় ঘোগাদহ ইউনিয়নের রসুলপুর গ্রামের এনসিপি নেতা মমিনুল ইসলাম মামুনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে পরিবার। তাদের অভিযোগ, জমি বিক্রির টাকা সংক্রান্ত বিষয়ে তার ভূমিকা ছিল এবং সময়মতো টাকা না পাওয়ায় শিশুটির চিকিৎসা ব্যাহত হয়েছে।
তবে পরিবারের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মমিনুল ইসলাম মামুন। তার দাবি, জমিজমা সংক্রান্ত ঘটনায় তার চাচাতো ভাই জড়িত ছিলেন এবং তাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এ ঘটনায় জড়ানো হচ্ছে। তিনি বলেন, তিনি এসবের সঙ্গে জড়িত নন।
মামুন আরও দাবি করেন, বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘ প্রায় ২৩ বছর ধরে মামলা চলেছে। পরে স্থানীয়দের উদ্যোগে বিষয়টি মীমাংসা করা হয় এবং সংশ্লিষ্টরা টাকা গ্রহণও করেছিলেন। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
এদিকে শিশুটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটন, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা এবং ন্যায়বিচারের দাবিতে মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানিয়েছে ভুক্তভোগী পরিবার।
তবে শিশুটির মৃত্যু, জমি বিক্রির অর্থ না পাওয়া এবং অস্ত্রোপচার না হওয়ার মধ্যে সরাসরি কোনো সম্পর্ক ছিল কি না—তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

0 Comments