👨🦱 নাগেশ্বরীর আপডেট নিউজ প্রতিবেদন 🔰প্রকাশ : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬:২৫ এএম
নাগেশ্বরী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার কচাকাটা থানার কুমেদপুর পাতালীপাড়ায় রুমি বেগম (২২) নামে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। যৌতুকের দাবিতে নির্যাতন ও হত্যার অভিযোগে নিহতের স্বামীসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে কচাকাটা থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ নিহতের স্বামী ও তার দ্বিতীয় স্ত্রীকে আটক করেছে।
নিহত রুমি বেগম কচাকাটার নামাচর এলাকার মো. শুকুর আলী ও মোছা. সাজেদা বেগমের মেয়ে। প্রায় নয় বছর আগে একই এলাকার এনামুল হকের সাথে তার বিয়ে হয়। তাদের সংসারে আরিফা (৫) ও ইয়াছিন হোসেন (৩) নামে দুই সন্তান রয়েছে।
নিহতের পরিবার ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, বিয়ের সময় যৌতুক হিসেবে নগদ ১ লাখ ১০ হাজার টাকা ও আসবাবপত্র দেওয়া সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ধরে আরও যৌতুকের দাবিতে রুমির ওপর শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিল তার শ্বশুরবাড়ির লোকজন। স্থানীয়ভাবে কয়েক দফা আপস-মীমাংসা হলেও নির্যাতন বন্ধ হয়নি। এমনকি ২০ দিন আগেও নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে স্বামী এনামুলকে আরও ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হয়।
অভিযোগ রয়েছে, ঢাকায় থাকাকালীন পরিবারের সম্মতিতে গোপনে দ্বিতীয় বিয়ে করেন এনামুল। গত ২৩ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে তিনি বাড়িতে এলে রুমির সাথে বাকবিতণ্ডা হয়। এর জের ধরে গত ২৬ সেপ্টেম্বর সকাল ৮টার দিকে যৌতুকের দাবিতে রুমিকে মারধর করে হত্যা করা হয় এবং ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দিতে মরদেহ ওড়না দিয়ে ঝুলিয়ে রাখা হয় বলে দাবি নিহতের স্বজনদের।
খবর পেয়ে কচাকাটা থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। এ ঘটনায় নিহতের ভাই মো. মাহিন আহম্মেদ বাদী হয়ে ৫ জনকে আসামি করে কচাকাটা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার অন্যান্য আসামিরা হলেন—ফজল হক (৫৫), রুপভানু (৪৫) এবং আমজাদ হোসেন (৩৫)।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কচাকাটা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) অর্পণ কুমার দাস জানান, খবর পেয়েই পুলিশ সুরতহাল শেষ করে লাশ উদ্ধার করেছে। অভিযুক্ত স্বামী এনামুল হক ও তার দ্বিতীয় স্ত্রী কুলসুমকে ইতিমধ্যেই আটক করা হয়েছে। মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর মূল কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
0 Comments