👨🦱 নাগেশ্বরীর আপডেট নিউজ প্রতিবেদন 🔰প্রকাশ : ৭ আগষ্ট ২০২৬, ৬:২৩ পিএম
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | নাগেশ্বরীর আপডেট নিউজ
ঋণের কিস্তি বকেয়া পড়লেই গ্রাহককে যখন-তখন ফোন করে বিরক্ত করা, ভয়ভীতি দেখানো, গালিগালাজ কিংবা সামাজিকভাবে হেয় করার দিন শেষ হতে যাচ্ছে। ঋণ আদায়ের ক্ষেত্রে ব্যাংক ও তাদের নিয়োজিত এজেন্টদের আচরণ নিয়ন্ত্রণে কঠোর ও সুনির্দিষ্ট নীতিমালা জারি করেছে ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংক—রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়া (আরবিআই)। আগামী বছরের ১ জানুয়ারি থেকে নতুন নির্দেশনাগুলো কার্যকর হবে।
নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, ব্যাংক বা অনুমোদিত ঋণ আদায়কারী এজেন্টরা সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে গ্রাহকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন। তবে গ্রাহক নিজে অন্য কোনো সময়ে কথা বলতে সম্মতি দিলে সেই সময়ে যোগাযোগ করা যাবে।
এ ছাড়া পরিবারে শোক, চিকিৎসাজনিত জরুরি অবস্থা কিংবা বিয়ের অনুষ্ঠানের মতো সংবেদনশীল পরিস্থিতিতে গ্রাহককে ফোন বা অন্য কোনোভাবে বিরক্ত করা যাবে না।
আরবিআই স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, বকেয়া আদায়ের নামে গ্রাহককে ভয় দেখানো, গালিগালাজ করা, কুরুচিপূর্ণ ভাষা ব্যবহার কিংবা বারবার ফোন করে মানসিক চাপ সৃষ্টি করা নিষিদ্ধ। জনসমক্ষে অপমান করা, গ্রাহক বা তার পরিবারের সদস্যদের ক্ষতি করার হুমকি দেওয়া এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তিগত তথ্য, ছবি, অডিও বা ভিডিও প্রকাশ করে হেয় করাও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
নতুন নিয়মে গ্রাহকের বাসা বা কর্মস্থলে গিয়ে ঋণ আদায়ের ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। সরাসরি সাক্ষাতের অন্তত একদিন আগে গ্রাহককে জানাতে হবে। প্রথমে গ্রাহকের সুবিধাজনক স্থানে সাক্ষাতের চেষ্টা করতে হবে। গ্রাহক বারবার নির্ধারিত স্থানে উপস্থিত হতে ব্যর্থ হলে তবেই তার বাসা বা কর্মস্থলে যাওয়ার সুযোগ থাকবে।
এ সময় ঋণ আদায়কারী এজেন্টের কাছে বৈধ পরিচয়পত্র, ব্যাংকের অনুমতিপত্র এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র থাকা বাধ্যতামূলক।
গ্রাহকের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঋণ আদায়সংক্রান্ত প্রতিটি ফোনকলের রেকর্ড অন্তত ছয় মাস সংরক্ষণের নির্দেশও দিয়েছে আরবিআই। কোনো ব্যাংক ঋণ আদায়ের দায়িত্ব তৃতীয় পক্ষের কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছে দিলেও ওই এজেন্টের অনিয়ম বা অপকর্মের দায় থেকে ব্যাংক মুক্তি পাবে না।
এজেন্টরা যাতে অতিরিক্ত কমিশন বা প্রণোদনার আশায় গ্রাহকের ওপর অযাচিত চাপ সৃষ্টি না করেন, সে বিষয়েও ব্যাংকগুলোকে নজরদারি করতে বলা হয়েছে।
এদিকে ঋণে কেনা স্মার্টফোন, ট্যাবলেট বা ল্যাপটপের মতো ডিজিটাল ডিভাইসের ক্ষেত্রেও নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। কিস্তি বকেয়া পড়ার সঙ্গে সঙ্গে ডিভাইস লক বা বন্ধ করা যাবে না। অন্তত ৩০ দিন বকেয়া থাকার পর আংশিক নিয়ন্ত্রণ এবং টানা ৬০ দিন বকেয়া থাকলে ডিভাইস সম্পূর্ণ লক করার সুযোগ থাকবে।
তবে ডিভাইস লক করা হলেও ইনকামিং কল, এসএমএস, জরুরি যোগাযোগ এবং জীবিকা নির্বাহের জন্য প্রয়োজনীয় ফিচার সচল রাখতে হবে। ব্যাংক কোনোভাবেই গ্রাহকের ব্যক্তিগত গ্যালারি বা ব্যক্তিগত তথ্যে প্রবেশ করতে পারবে না।
বকেয়া পরিশোধের পর এক ঘণ্টার মধ্যে ডিভাইস পুনরায় সচল করতে ব্যর্থ হলে প্রতি ঘণ্টার জন্য ব্যাংককে গ্রাহককে ২৫০ রুপি করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিধানও রাখা হয়েছে।
ভারতের আর্থিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ডিপিডিজিরোর সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী অনন্ত শ্রফ আরবিআইয়ের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তার মতে, এটি শুধু ঋণ আদায় ব্যবস্থায় সামান্য পরিবর্তন নয়; বরং একটি বড় ধরনের কাঠামোগত সংস্কারের উদ্যোগ। তবে এসব নিয়ম কাগজে সীমাবদ্ধ না রেখে মাঠপর্যায়ে কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা জরুরি বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
আরবিআইয়ের নতুন নীতিমালাকে ঋণগ্রহীতাদের হয়রানি কমানো এবং ঋণ আদায় প্রক্রিয়ায় শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতা বাড়ানোর গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

0 Comments