👨🦱 নাগেশ্বরীর আপডেট নিউজ প্রতিবেদন 🔰প্রকাশ : ৩০ আগষ্ট ২০২৬, ৮:৫২ পিএম
নাগেশ্বরী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে একাধিক গ্রাহকের বিদ্যুৎ বিল অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। আগের মাসগুলোর তুলনায় চলতি মাসে কয়েক গুণ বেশি বিল আসায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী গ্রাহকেরা। এর মধ্যে আবার নিয়মিত লোডশেডিংয়ে ভোগান্তি আরও বেড়েছে বলে অভিযোগ তাদের।
গ্রাহকদের অভিযোগ, আগের মাসগুলোতে যেখানে ৩০০ থেকে ৬০০ টাকার মধ্যে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতেন, সেখানে চলতি মাসে অনেকের বিল ১ হাজার থেকে ২ হাজার টাকারও বেশি এসেছে।
নাগেশ্বরীর গ্রাহক আঃ বারিক বলেন, “আগে আমার বিদ্যুৎ বিল ৪০০ থেকে ৫৯৯ টাকার মধ্যে আসত। কিন্তু এই মাসে বিল এসেছে ২ হাজার ১৫৫ টাকা।”
আশরাফুল নামে আরেক গ্রাহক বলেন, “আগে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা বিল আসত। এবার বিল এসেছে ১ হাজার ৪০০ টাকা।”
আসাদুর রহমান নামে এক গ্রাহক বলেন, “আগে আমার বিল ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা আসত। এবার এসেছে ২ হাজার ৪০০ টাকা। এত বেশি বিল কেন এসেছে, তা বুঝতে পারছি না।”
এ ধরনের আরও অনেক গ্রাহক অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিল পাওয়ার অভিযোগ করেছেন বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে নাগেশ্বরী জোনাল অফিসে যোগাযোগ করা হলে সংশ্লিষ্টরা জানান, বর্তমানে বিদ্যুৎ ব্যবহারের ইউনিটভিত্তিক স্ল্যাবের দাম বেড়েছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ০ থেকে ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত প্রতি ইউনিট ৫.২৬ টাকা, ৭৬ থেকে ২০০ ইউনিট পর্যন্ত ৮.৫০ টাকা এবং ২০১ থেকে ৩০০ ইউনিট পর্যন্ত প্রতি ইউনিট ৯.১০ টাকা হারে বিল হিসাব করা হয়। ইউনিটের স্ল্যাব বাড়ার সঙ্গে বিলের পরিমাণও বাড়ে।
এ ছাড়া ডিমান্ড চার্জ, মিটার ভাড়া, ভ্যাট ও অন্যান্য চার্জ যুক্ত হওয়ায় মোট বিলের পরিমাণ বেশি হতে পারে বলে জানিয়েছে বিদ্যুৎ অফিস। তাদের দাবি, এ ক্ষেত্রে স্থানীয় বিদ্যুৎ অফিসের কোনো দায় নেই।
অন্যদিকে আমিনুর নামে এক গ্রাহক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমার জীবনে কখনো এত বেশি বিদ্যুৎ বিল আসেনি।”
গ্রাহকদের দাবি, বিদ্যুৎ বিলের পাশাপাশি তারা নিয়মিত লোডশেডিংয়েরও শিকার হচ্ছেন। একদিকে অস্বাভাবিক বিল, অন্যদিকে বিদ্যুৎ না থাকা—দুইয়ে মিলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ গ্রাহকেরা।
গ্রাহকদের প্রত্যাশা, সরকার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিদ্যুৎ বিলের হার পুনর্বিবেচনা করে সাধারণ মানুষের জন্য সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসবে এবং লোডশেডিং কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।

0 Comments