👨🦱 নাগেশ্বরীর আপডেট নিউজ প্রতিবেদন 🔰প্রকাশ : ১৮ জুলাই ২০২৬, ৬:১৬ পিএম
নিজস্ব প্রতিবেদক | কুড়িগ্রাম
কুড়িগ্রাম বাণিজ্য মেলায় কর্মরত এক তরুণী শিল্পী (ছদ্মনাম: আরজু আক্তার) ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ তুলে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশের সহায়তা চান। খবর পেয়ে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে কুড়িগ্রাম সদর থানায় নিয়ে যায়। এ ঘটনায় কুড়িগ্রাম সদর থানা যুবদলের সদস্য সচিব মো. সাজু মিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেওয়া হলেও ভুক্তভোগী বা তার পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ না থাকায় পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার (১৮ জুলাই) ভোরে ৯৯৯-এ ফোন করে ওই তরুণী জানান, তিনি বিপদাপন্ন অবস্থায় রয়েছেন। তাৎক্ষণিকভাবে কুড়িগ্রাম সদর থানার একটি মোবাইল টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।
তরুণীর ভাষ্য অনুযায়ী, বাণিজ্য মেলায় নাচ-গানের পরিবেশনা শেষে গভীর রাতে বিশ্রামের জন্য তিনি ধরলা সেতু সংলগ্ন একটি বাড়িতে যান। সেখানে তার সঙ্গে অশোভন আচরণ করা হয় এবং কুপ্রস্তাব দেওয়া হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে তিনি ভোরে সেখান থেকে দৌড়ে বের হয়ে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করেন।
পুলিশ জানায়, ভুক্তভোগীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কুড়িগ্রাম সদর থানা যুবদলের সদস্য সচিব মো. সাজু মিয়াকে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তবে দিন শেষে ভুক্তভোগী কিংবা তার পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের না হওয়ায় বিকেল ৫টার দিকে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
ঘটনার অনুসন্ধানে জানা যায়, ওই তরুণী উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় আয়োজিত মেলায় পারফর্ম করা একজন ভাড়াটে শিল্পী। পরে তার বাবা (ছদ্মনাম: আলতাফ হোসেন) মিঠাপুকুর থেকে কুড়িগ্রাম সদর থানায় এসে মেয়েকে নিয়ে যান। পরিচয় গোপন রাখার অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, মেয়ের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে বিষয়টি আর না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এদিকে অভিযোগ রয়েছে, সাংবাদিকরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করার পর কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি তরুণী ও তার বাবাকে দ্রুত রংপুরগামী একটি পরিবহনে তুলে দেন। তবে এ বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম সদর থানা যুবদলের সদস্য সচিব মো. সাজু মিয়ার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নাদিম আহমেদকেও একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
অন্যদিকে, কুড়িগ্রাম বাণিজ্য মেলার প্রিন্স ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আঙুর মিয়া বলেন, সার্কাস ও যাদু প্রদর্শনীর শিল্পীদের যাতায়াত কিংবা অবস্থানের বিষয়টি তাদের তত্ত্বাবধানে নয়। ঘটনাটি মেলা প্রাঙ্গণের বাইরের হওয়ায় এ বিষয়ে তার বিস্তারিত জানা নেই।
কুড়িগ্রাম সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামাল হোসেন বলেন, “৯৯৯ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে তরুণীকে উদ্ধার করে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছিল। কিন্তু ভুক্তভোগী বা তার পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ না পাওয়ায় আইনগতভাবে তাকে আটক রাখার সুযোগ ছিল না। পরে তরুণীকে তার বাবার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।”
ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের পরিচয় সুরক্ষার স্বার্থে এ প্রতিবেদনে ছদ্মনাম ব্যবহার করা হয়েছে।

0 Comments