👨🦱 নাগেশ্বরীর আপডেট নিউজ প্রতিবেদন 🔰প্রকাশ : ২৩ জুলাই ২০২৬, ৩:২০ পিএম
নিজস্ব প্রতিবেদক | ভুরুঙ্গামারী
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে মাদক ও চোরাচালানবিরোধী বিশেষ অভিযানে ৪টি ভারতীয় গরু উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ সময় চোরাচালানের অভিযোগে ৫ জনকে আটক করা হয়। তাদের কাছ থেকে ভারতীয় সিমকার্ড, ভারতীয় চোরাই মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন অবৈধ সামগ্রী জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪ অনুযায়ী পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে উপজেলার শিলখুড়ি ইউনিয়নের কাজিয়ার চর এলাকা থেকে গরুগুলো উদ্ধার এবং চোরাকারবারিদের আটক করা হয়। উদ্ধার হওয়া গরুগুলোর শরীরের বিভিন্ন স্থানে কাঁটাতারের আঘাত এবং দীর্ঘ পথ অতিক্রমের কারণে পায়ের ক্ষুরে ক্ষতচিহ্ন পাওয়া যায়, যা সীমান্ত পেরিয়ে আনার আলামত বলে জানিয়েছে পুলিশ।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ভারতের সীমান্তবর্তী এলাকায় দুধকুমার নদীর ওপর নির্মিত একটি বেইলি সেতুর নিচ দিয়ে বিশেষ কৌশলে ভারতীয় চোরাকারবারিরা গরু নদীতে ভাসিয়ে দেয়। পরে বাংলাদেশ অংশে অবস্থানরত চোরাকারবারিরা নৌকায় করে গরুগুলো কালজানি ঘাটে নিয়ে বিভিন্ন বাড়িতে রাখে। পরবর্তীতে স্থানীয় গরু হিসেবে পরিচয় দিয়ে ভূরুঙ্গামারী হাটসহ বিভিন্ন বাজারে বিক্রি করা হতো।
পুলিশের ভাষ্য, এ ধরনের চোরাচালানের কারণে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে। একই সঙ্গে দেশীয় খামারিরাও ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হয়ে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।
অভিযানে আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে ভারতীয় সিমকার্ডও উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, সীমান্তবর্তী কাজিয়ার চর এলাকায় বাংলাদেশি মোবাইল নেটওয়ার্ক দুর্বল হওয়ায় চোরাকারবারিরা ভারতীয় সিম ব্যবহার করে থাকে। বিশেষ করে শিলখুড়ি ও তিলাই ইউনিয়নে গরু, মাদকসহ বিভিন্ন ধরনের চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত অনেকের কাছেই সচল ভারতীয় সিম রয়েছে। এসব ব্যবহারকারীকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
অভিযান পরিচালনা করেন ভূরুঙ্গামারী পুলিশ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মুনতাসির মামুন মুন এবং ভূরুঙ্গামারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আজিম উদ্দিন।
এ বিষয়ে সহকারী পুলিশ সুপার মুনতাসির মামুন মুন বলেন, “সীমান্তবর্তী শিলখুড়ি, তিলাই ও পাথরডুবি ইউনিয়নের একটি অংশ দীর্ঘদিন ধরে চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত। তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের সামাজিকভাবে পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া গেলে এ সমস্যা স্থায়ীভাবে সমাধান করা সহজ হবে।”

0 Comments